দুপুর ২:৫৫ | শনিবার | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল
শীতকাপড়ের বেচাকেনা জমে উঠেছে

শীতকাপড়ের বেচাকেনা জমে উঠেছে

শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজধানীর খুচরা বাজারে গরম কাপড়ের বেচাকেনা জমে উঠেছে। বিপণিবিতান ও ফুটপাত—সবখানেই ভিড় লক্ষণীয়।

শীত জেঁকে বসার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠেছে গরম কাপড়ের বাজার। অনেকেই পরিবারের জন্য, আবার কেউ কেউ ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করতে এখন গরম কাপড় কিনছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেসরকারি দাতা সংস্থা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো কম্বলসহ গরম কাপড়ের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। আর নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক নেতা–কর্মীরা বিশেষ করে কম্বল কিনে নিচ্ছেন।

রাজধানীর বঙ্গবাজার, ফুলবাড়িয়া, গুলিস্তান ও নিউমার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে হরতাল ও অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে পাইকারি বেচাকেনায় খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি তাঁরা। তবে শীত জেঁকে বসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রয়াদেশ বেড়েছে। শীতের শুরুতে ত্রাণের কম্বলেরও চাহিদা কম ছিল।

কিন্তু নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করায় এখন কম্বলের ক্রয়াদেশ ভালোই মিলছে। অন্যদিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতারা জানান, এবার প্রথম থেকেই তাঁদের বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ত্রাণের কম্বল হিসেবে কম দামি কম্বলই বেশি বিক্রি হয়। সাধারণত বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি দাতা সংস্থা (এনজিও), সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ত্রাণের কম্বলের বড় ক্রেতা। রাজনৈতিক নেতা–কর্মীরাও কিছু কিছু কিনতেন। কিন্তু এবার নির্বাচনের মৌসুম হওয়ায় তাঁরা বেশি করে ক্রয়াদেশ দিচ্ছেন।

রাজধানীর বঙ্গবাজারের শীতের গরম কাপড়ের পাইকারি ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, পাইকারি বেচাকেনার বড় অংশ শীতের শুরুতে হয়ে থাকে। এবার সেটা হয়নি। তবে শীত বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনা বেশ বেড়েছে। এখন ত্রাণের কম্বলেরও ভালো চাহিদা আসছে। ত্রাণের জন্য কেউ কিনতে চাইলে অন্তত হাজার পাঁচেক কম্বলের ক্রয়াদেশ দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ ২০ থেকে ৫০ হাজার কম্বলও নেন। বিভিন্ন সংগঠন কম্বল নিলেও এখন বড় আকারের চাহিদা আসছে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে।

ত্রাণের কম্বলের ভালো চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন কম্বলের চাহিদা বেশ ভালো। নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ এসব কম্বল কেনেন। দাম একটু কম থাকে। তবে ত্রাণের জন্য কম্বল নিলে আমরা লাভ একটু কম করার চেষ্টা করি।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাজধানীর বঙ্গবাজার-গুলিস্তানের বাইরে শীতের গরম কাপড়ের পাইকারি বাজারের মধ্যে অন্যতম কেন্দ্র হলো কেরানীগঞ্জ। এই পোশাকপল্লিতে তিন শতাধিক শপিংমল আছে। ছোট ও মাঝারি আকারের পোশাক কারখানাসহ সেখানে রয়েছে ১০ হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। শীত মৌসুমে এই এলাকার বেশির ভাগ দোকানে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি শীতের গরম কাপড় তোলা হয়। এ ছাড়া কামরাঙ্গীরচরের তৈরি পোশাকের দোকানগুলোর মধ্যে সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠান শীতকাপড়ের মৌসুমি ব্যবসা করে থাকে।

ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার মিতালি মার্কেট এলাকার ১৪টি ভবনে প্রায় দেড় হাজার কাপড়ের দোকান ও ছোট পোশাক কারখানা আছে। সেখানে একটু কম দামি পণ্য তৈরি হয়। একই এলাকার পারিজাত কম্বলের বাজারে পাইকারি ব্যবসায়ী আছেন দুই শতাধিক। রয়েছে কম্বল তৈরির বেশ কিছু কারখানাও।

গরম কাপড়ের দরদাম

শীতের গরম কাপড়ের বাজার সাধারণত দুই ধরনের। একটি কম্বলের বাজার, অন্যটি পোশাকের। কম্বলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এবার প্রতিটি দেশি কম্বলের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা। আর আমদানি করা কম্বলের দাম একটু বেশিই বেড়েছে। বিদেশি একেকটা কম্বলে দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। ঢাকায় একটি দেশি কম্বল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। আর বিদেশি কম্বলের দামই শুরু হয় ৮০০ টাকা থেকে। আমদানি করা এসব কম্বলের মানভেদে দাম আট হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

গরম পোশাকের তালিকায় জ্যাকেট, সোয়েটার, মাফলার, শাল, চাদর এগুলো পড়ে; যা ডেনিম, নিট ও উলের কাপড় দিয়ে তৈরি হয়। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা গরম পোশাক তৈরির পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্যও বাহারি সব শীতের পোশাক বাজারে দেখা যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, কাপড় ও মজুরি বাবদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার পণ্যের দামও কিছুটা বেড়েছে। নারী, পুরুষ ও বাচ্চাদের শীতের পোশাকের মান ও আকারভেদে দাম ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

CATEGORIES
TAGS
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus (0 )