বিকাল ৩:৫৫ | শনিবার | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল
তিন সূচকে ধনী দেশের অন্য রকম তালিকা, বাংলাদেশের অবস্থা কী

তিন সূচকে ধনী দেশের অন্য রকম তালিকা, বাংলাদেশের অবস্থা কী

বাজারের বর্তমান বিনিময়মূল্যে ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর পিপিপি বা পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি বা স্থানীয় বাজারমূল্যের নিরিখে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৭ হাজার ৪০০ ডলার। কিন্তু সেই উপার্জন করার জন্য যে পরিমাণ সময় মানুষকে কাজ করতে হয়েছে, তার নিরিখে মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬৩০ ডলার।

দ্য ইকোনমিস্ট সম্প্রতি বিশ্বের ধনী দেশের তালিকা তৈরি করেছে। তিনটি সূচকের ভিত্তিতে এই তালিকা করেছে তারা। সাময়িকীটি মনে করছে, এর মধ্য দিয়ে একটি দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়।

এই সূচকে দেখা যায়, প্রথম সূচক ছাড়া বাকি দুই সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। বর্তমান বিনিময়মূল্যের নিরিখে ভারতের মানুষের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৩৯০ ডলার; কিন্তু পিপিপিতে ৮ হাজার ৩৮০ ডলার ও সেই উপার্জন করার জন্য যে পরিমাণ সময় মানুষকে কাজ করতে হয়েছে, তার নিরিখে ৮ হাজার ২০ ডলার।

পাকিস্তানের মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ৬০০ ডলার হলেও অন্যান্য দুই সূচকে তাদের অবস্থান বেশি পেছনে নেই। দেশটির পিপিপি ৬ হাজার ৪৪০ ডলার আর সেই উপার্জন করার জন্য যে পরিমাণ সময় মানুষকে কাজ করতে হয়েছে, তার নিরিখে ৮ হাজার ৩১০ ডলার।

বিশ্বের কোন দেশের সম্পদ কত, তা তুলনা করা প্রকৃত অর্থে কঠিন। যেসব দেশের জনসংখ্যা বেশি, সেসব দেশের অর্থনীতিও বড়, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেসব দেশের নাগরিকদের আয় বেশি। সাধারণত ডলারে মাথাপিছু আয় নিরূপণ করার মধ্য দিয়ে একটি দেশের মানুষ কতটা ধনী বা কতটা গরিব, তার পরিমাপ করা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে পণ্যমূল্যের মূল্যের পার্থক্য কতটা বা সেই নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুরি উপার্জন করতে মানুষকে কত ঘণ্টা কাজ করতে হয়েছে, তার হিসাব মাথাপিছু জিডিপির মধ্যে থাকে না। সে জন্য তাতে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না বলেই মনে করে দ্য ইকোনমিস্ট।

সেই বাস্তবতায় তিনটি সূচকের নিরিখে দ্য ইকোনমিস্ট তালিকা প্রণয়ন করেছে। ডলারে মাথাপিছু আয়ের সঙ্গে পিপিপি ও প্রতি ঘণ্টা কাজের জন্য মানুষ কত মজুরি উপার্জন করছে তার নিরিখে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের এই তালিকা। এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে, যে দেশ মাথাপিছু আয়ে সবার ওপরে, তারা যে এই তিন সূচকে সবার ওপরে তা নয়। বড়জোর দুটি সূচকে একটি দেশ সবার ওপরে আছে, কিন্তু তিনটি সূচকে নয়। যেমন মাথাপিছু আয় ও পিপিপিতে লুক্সেমবার্গ বিশ্বের শীর্ষ দেশ, তবে ঘণ্টাপ্রতি মজুরিতে তারা দ্বিতীয়।

ইকোনমিস্টের তালিকায় বোঝা যায় অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া কতটা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের কথাই বলা যায়, বাজার বিনিময়মূল্যের দিক থেকে দেশটির জিডিপি বিশ্বের বৃহত্তম, কিন্তু মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে তারা সপ্তম, পিপিতে অষ্টম। দেশটির মানুষকে এই পরিমাণ আয় করার জন্য যত কষ্ট করতে হয়েছে, তার নিরিখে দেশটি একাদশ।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের অবস্থা আরও খারাপ। মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে দেশটির স্থান ৬৫তম আর তৃতীয় সূচক অর্থাৎ সেই আয় করার জন্য যে পরিমাণ কাজের করতে হয়েছে, তার নিরিখে দেশটির অবস্থান ৯৬তম। যেসব দেশে কর্মসংস্কৃতি ভালো নয়, তাদের ক্ষেত্রে এসব সূচকে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। প্রথম সূচকে দক্ষিণ কোরিয়ার স্থান ৩১তম, দ্বিতীয় সূচকে ৩০তম ও তৃতীয় সূচকে ৪৭তম।

পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোয় এ প্রবণতা বিপরীতমুখী। যেমন বেলজিয়াম, জার্মানি ও সুইডেনের মতো দেশ দ্বিতীয় ও তৃতীয় সূচকে অনেক ভালো অবস্থায় আছে, যদিও প্রথম সূচকে তারা অতটা ভালো নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই দেশের স্থানীয় বাজারে পণ্যের মূল্য এবং তাদের কর্মসংস্কৃতি অন্য অনেক দেশের জন্যই ঈর্ষার কারণ হতে পারে। স্থানীয় মূল্যের নিরিখে লুক্সেমবার্গের মজুরি বিশ্বে সবচেয়ে বেশি, আর ঘণ্টাপ্রতি সবচেয়ে বেশি মজুরি নরওয়েতে।ৎ

এত কিছু হিসাব করার পরও দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, এই পরিসংখ্যান যথাযথ নয়। পণ্য ও সেবার মানে যে পার্থক্য আছে, পিপিপির হিসাব দিয়েও তা ধারণ করা সম্ভব নয়। শ্রমঘণ্টা নির্ধারণের পদ্ধতি একেক দেশে একেক রকম হতে পারে—বিশেষ করে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশে, যেখানে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত অনেক বড়। এসব দেশের ক্ষেত্রে এই হিসাব করা খুবই কঠিন। আবার অনেক দেশের পরিসংখ্যানে আস্থা রাখাই কঠিন।
কিছু দেশের সঞ্চয়ের হার অনেক বেশি, যেমন চীন। সে কারণে পিপিপি সমন্বিত ঘণ্টাপ্রতি জিডিপির হিসাব দিয়ে চীনাদের প্রকৃত জীবনযাত্রার মানের চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, এই ক্রমতালিকায় মানুষের গড় আয়ের চিত্র পাওয়া যায়, সম্পদের নয়। কিন্তু এই তালিকায় দেশগুলোর মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় বলে তারা মনে করছে। এতে দেখা যায়, কোথায় মানুষের অর্থ সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় আর কোথায় অনেক সময় কাজ করলেই যে বেশি মজুরি পাওয়া যায়, তা নয়।

দ্য ইকোনমিস্ট ২০টি দেশের দেশের ক্রমতালিকা বা র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে, বাকি দেশগুলোর পরিসংখ্যান বর্ণানুক্রমে দিয়েছে। শীর্ষ এই ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই, তবে বর্ণানুক্রমিক দেশের মধ্যে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করেছে। সে কারণে বাংলাদেশের অবস্থান ঠিক কী, তা বোঝা যাচ্ছে না।

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus (0 )