বিকাল ৪:২৭ | শনিবার | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল
গাজার প্রথম নারী সার্জন সারার বেঁচে থাকাই এখন একমাত্র স্বপ্ন

গাজার প্রথম নারী সার্জন সারার বেঁচে থাকাই এখন একমাত্র স্বপ্ন

সারা আল–সাক্কা গত আগস্টে সার্জন হয়ে দেশে ইতিহাস গড়েছেন। কারণ, তিনি গাজার প্রথম নারী সার্জন। সেদিন ৩১ বছর বয়সী এই নারী বলেছিলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে তিনি অনেক কিছু করতে চান। তাঁর অনেক স্বপ্ন। একদিন নিজের একটি ক্লিনিক হবে।

কিন্তু আট সপ্তাহ পরই যেন সারার জীবনের স্বপ্নগুলো হারিয়ে গেছে। জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল শুধু বেঁচে থাকা। সারা বলেন, ‘আমার এখন একটাই চাওয়া। সবারই পছন্দের অগ্রাধিকার তালিকা পরিবর্তন হয়। আমরাও তেমন অবস্থা। এখন আমি শুধু বেঁচে থাকার কথাই চিন্তা করি’।

সারা স্নাতক শেষ করার পর থেকে উপত্যকার উত্তরে সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফাতে কাজ করছেন। ৭ অক্টোবর ছিল তাঁর সাপ্তাহিক ছুটি। তাঁর মনে আছে, সেদিন ১৭ বছর বয়সী তাঁর ছোট বোন স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরই মধ্যে চারপাশ থেকে শুধু বোমা হামলার তীব্র শব্দ আসছিল। আতঙ্কে বোনকে আর সেদিন স্কুলে যেতে দেননি।

এরপর সারা তাঁর মুঠোফোন হাতে নিতেই ইসরায়েলে হামাসের হামলার খবর দেখেন। তারা ১ হাজার ২০০ মানুষকে হত্যা করেছে ও ২৪০ জনকে বন্দী করে গাজায় নিয়ে এসেছে। এরপর থেকে ইসরায়েল অবিরাম গাজায় বিমান হামলা ও স্থলভাগে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উপত্যকার বিশাল অংশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এরই মধ্যে গাজায় নিহত মানুষের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে।

ইসরায়েল যখন বিমান হামলা শুরু করল, তখন তারা গাজাবাসীকে উত্তর থেকে দক্ষিণে গাজায় নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলে। কিন্তু সারা থেকে যান। তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের বিরতি না নিয়ে, বাড়ি না গিয়ে আমরা ৩৪ দিন টানা কাজ করে গেছি।’

পরিস্থিত কত দ্রুত খারাপ হয়ে গেল, সেই বর্ণনা দিতে গিয়ে সারা বলেন, প্রতিটি বোমা হামলার পর শত শত রোগীর ঢল নামত।  অথচ তাঁদের সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া ছিল অসম্ভব। অনেকেই হাসপাতালে থাকাটাকে বেশি নিরাপদ মনে করতেন। হাসপাতালে যেখানে জায়গা পেয়েছেন, সেখানেই লোকজন ঠাঁই নিয়েছিলেন। বারান্দায় রান্না করে খাচ্ছিলেন, মেঝেতে ও আলমারিতে ঘুমাচ্ছিলেন। বাচ্চাদের খেলাধুলার মাধ্যমে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

রোগীদের ওষুধ ও জীবাণুমুক্ত গ্লাভসের মতো মৌলিক জিনিসগুলো জোগাতে হাসপাতালটিকে বেশ বেগ পেতে হয়। কোন রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি, তার ভিত্তিতে সেই রোগীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল সারাকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে যা ছিল, তা দিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তারপরও এত নিরপরাধ জীবন বাঁচাতে পারিনি, এটি আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়।’

এত দুঃখ–বেদনার মধ্যেও টুকরা টুকরা সুখের ঘটনা ঘটেছে সারার জীবনে। এই পরিস্থিতিতে সারার হাত দিয়ে প্রথমবারের মতো এক নবজাতক পৃথিবীতে আসে। তবে তার আগে সেই প্রসূতি মা ও সারা অস্ত্রোপচার কক্ষে এক রাত আটকা পড়েছিলেন। কারণ বাইরে তখন বোমা পড়ছিল।  

ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত গাজা সিটির বাড়িঘর

ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত গাজা সিটির বাড়িঘরছবি: এএফপি ফাইল ছবি

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus (1 )